Featured Posts

[Travel][feat1]

আনারসের উপকারিতা / Benefits of pineapple in Bengali

December 06, 2019

আনারসের উপকারিতা / Benefits of pineapple in Bengali -

Benefits of pineapple


অতি রসালো টক-মিষ্টি স্বাদযুক্ত একটি চমৎকার ফল হলো আনারস। এর স্বাদ সুগন্ধ যেমন জগদ্বিখ্যাত ঠিক তেমনি এর ভেষজ গুনাগুন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। বহু প্রাচীন কাল থেকেই আনারস সেবন করার রীতি প্রচলিত। তাই আজকের এই লেখা থেকে আমরা জেনে নেব আনারসের নানারকম উপকারিতার কথা।
আনারসের উপকারিতা / Pineapple benefits in Bengali.

1. অস্থির মজবুতীর জন্য আনারসের উপকারিতা -


যদি আপনি চান যে আপনার হাড় শক্তিশালী ও সুস্থ ভাবে গড়ে উঠুক তাহলে আপনার প্রতিদিনের খাবার দাবারের সাথে আনারস সেবন করতে ভুলবেন না। কেননা আনারসের মধ্যে পাওয়া যায় ম্যাঙ্গানিজ। এই ম্যাঙ্গানিজ আবার হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে।

2. মুখের স্বাস্থ্য -


আনারস আপনার মুখের স্বাস্থ্য অর্থাৎ ওরাল হেল্থ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এতে ভিটামিন সি পাওয়া যায়, যেটা আপনার দাঁতে সৃষ্টি হওয়া প্লাগের এর সমস্যা আটকাতে সাহায্য করে। এছাড়াও আনারস মাড়ির সমস্যা দূর করতে পারে। আনারসে ব্রোমেলিন নামক উপাদান পাওয়া যায়, এই ব্রোমেলিন আপনার দাঁত সাদা ও সুন্দর রাখতে সাহায্য করে।

3. সর্দি কাশির সমস্যা -


যখন মিউকাস মেমব্রেনে কোন প্রকার সমস্যা সৃষ্টি হয় তখন নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যা হয়। আনারসে অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি গুণ পাওয়া যায়, যেটা এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। যদি আপনার এইরকম কিছু সমস্যা থেকে থাকে তাহলে নিয়মিত ভাবে আনারস সেবন করলে উপকার পাওয়া যাবে।

4. সুস্থ হার্ট -


আনারস নিয়মিত সেবন করার মাধ্যমে হার্ট সুস্থ রাখা সম্ভব। আনারসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়, যেটা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যার ফলে কয়েক প্রকার হার্ট সম্বন্ধীয় সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়।

5. ইমিউন সিস্টেম -


আনারস আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খুবই কার্যকরী। এতে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এই ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার সাথে সাথে সর্দি কাশি ইত্যাদি সংক্রামক রোগ থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম। সুতরাং ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করার জন্য আপনি নিয়মিত আনারস সেবন করতে পারেন।

6. ফ্রী রেডিক্যাল্স থেকে মুক্তি -

আনারস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি ফল। যেটা শরীরে ফ্রী রাদিক্যালস ছাড়তে সাহায্য করে, এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য আমাদের শরীরকে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস, হার্টের রোগ, বিভিন্ন প্রকার ক্যান্সার ইত্যাদি থেকে বাঁচাতে পারে। এই ধরনের খারাপ পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য আমাদের নিয়মিত আনারস সেবন করা উচিত।

7. গাউট এবং সাইনোসাইটিস -

আনারসে ব্রোমেলিন পাওয়া যায়, যেটা সাইনোসাইটিসকে আটকাতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে উপস্থিত অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি গুণ গাউট এবং ব্যথা-বেদনা ঠিক করতে সাহায্য করে।

8. ক্যান্সার -

আনারসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ব্রোমেলিন পাওয়া যায় যেটা ফ্রী রাদিক্যালস এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে শরীরকে ক্ষতি হওয়ার হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে এবং অনেক রকমের ক্যান্সার থেকে বাঁচাতে পারে।

9. বদহজমের সমস্যা -

আনারস আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এতে উপস্থিত ব্রমেলিন, ভিটামিন সি এবং প্রচুর ফাইবার আপনার ডাইজেস্টিভ সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে পারে।

10. ব্রংকাইটিস -

আনারসে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি গুনাগুন পাওয়া যায় যেটা কয়েক প্রকার পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সাহায্য করে। এটা ব্রঙ্কিয়াল টিউবে প্রদাহ কম করতে সাহায্য করে, যেটা সাধারণভাবে ব্রংকাইটিস এর কারণে সৃষ্টি হয়।
আনারসের উপকারিতা / Benefits of pineapple in Bengali আনারসের উপকারিতা / Benefits of pineapple in Bengali Reviewed by ভালোবাসি on December 06, 2019 Rating: 5

তরমুজের উপকারিতা / Benefits of watermelon in Bengali

December 06, 2019

তরমুজের উপকারিতা / Benefits of watermelon in Bengali -

Benefits of watermelon


তরমুজ এই ফলে কয়েক প্রকার জরুরি পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়। এই জন্যই এটা শরীরের সাথে সম্পর্কিত অনেক রকম সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। তরমুজ ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বী সমৃদ্ধ একটি ফল। কিন্তু এই ফলে একটি বিশেষ উপাদান পাওয়া যায় যার নাম হলো লাইকোপেন, এই উপাদানটি শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে এবং এই উপাদানটির জন্যই তরমুজ গাঢ় লাল রংয়ের হয়। তাহলে আজকের এই লেখা থেকে আমরা জেনে নেবো তরমুজের উপকারিতা সম্পর্কে / watermelon benefits in Bengali

1. তরমুজ আপনার শরীরকে হাইড্রেট রাখে -


শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে শরীরকে হাইড্রেট রাখা খুবই জরুরী। অর্থাৎ আপনার শরীরে জল পর্যাপ্ত মাত্রায় থাকা দরকার। ডিহাইড্রেশন নানা রকম শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য, শারীরিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, মাথা ব্যথা, মুখের শুষ্ক ভাব, পেট ফুলে ওঠা, লো ব্লাড প্রেসার ইত্যাদি। তরমুজে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পাওয়া যায়, এইজন্য এটা শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সক্ষম। বিশেষ করে গরমের দিনে শরীরকে ডিহাইড্রেশন এর হাত থেকে রক্ষা করে।

2. শরীরের স্থূলতা কমাতে তরমুজ সাহায্য করে -


শরীরের ওজন কম করতে তরমুজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যে সমস্ত ব্যক্তিরা অতিরিক্ত স্থূলতার জন্য নানারকম সমস্যায় ভুগছেন তাদের দৈনিক খাদ্যতালিকায় তরমুজ যুক্ত করা দরকার। শরীরের স্থূলতা কমানো তরমুজের নানারকম উপকারিতার মধ্যে একটি অন্যতম। তরমুজে ক্যালরির মাত্রা খুবই কম, অথচ ফাইবার অধিকমাত্রায় পাওয়া যায়। এছাড়াও এতে জল এর মাত্রা অধিক পরিমাণে রয়েছে, যার ফলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায় এবং শরীরের স্থূলতা কমাতে সাহায্য করে।

3. তরমুজ আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সক্ষম -


ডাইজেস্টিভ সিস্টেম উন্নত করতে তরমুজ একটি অনবদ্য খাদ্য উপাদান। তরমুজে প্রচুর পরিমাণে জল পাওয়া যায়। আর এই জল আপনার গৃহীত খাদ্য হজম করতে খুবই সাহায্যকারী। এছাড়াও এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার পাওয়া যায়। এই ফাইবার আবার হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, ডাইজেস্টিভ সিস্টেমকে উন্নত করে। এছাড়াও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে, ডায়রিয়া এবং গ্যাস জনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

4. তরমুজ আপনার হার্টের জন্য লাভকারী -


হার্টকে সুস্থ রাখতে সক্ষম তরমুজ। একটি গবেষণা অনুসারে জানা গেছে যে প্রতিদিন তরমুজ সেবন করলে অথবা তরমুজের রস পান করলে খারাপ কোলেস্টেরল এর হাত থেকে হার্ট সুরক্ষিত থাকে, খারাপ কোলেস্টেরল হার্টের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। গবেষণায় এটাও জানা গেছে যে তরমুজের হার্টকে সুস্থ রাখার পিছনে ভূমিকা পালন করে সাইট্রলাইন নামক উপাদান। গবেষণায় বলা হয়েছে যে তরমুজ সঠিকভাবে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস এর উপর সঠিকভাবে প্রভাব বিস্তার করে।

5. ক্যান্সার উপশম করতে তরমুজ এর ভূমিকা -


ক্যান্সারের মতো ভয়ঙ্কর রোগের বিরুদ্ধে তরমুজ লড়াই করতে পারে। তরমুজে লাইকোপেন নামক উপাদান পাওয়া যায়। যেটা শরীরকে ক্যান্সারের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। লাইকোপিনের কারণে তরমুজ লাল রং প্রাপ্ত হয়। লাইকোপিন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এই কারণে এটা শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টি করার রাস্তায় বাধা প্রদান করে।

একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুসারে জানা গেছে যে লাইকোপিনে কেমো প্রিভেন্টিভ গুন পাওয়া যায়, যেটা বিশেষ করে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কম করতে সাহায্য করে। অন্য একটি গবেষণায় জানা গেছে যে লাইকোপিন তার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্যে কেমোথেরাপির ক্ষতিকর প্রভাব কম করতে সাহায্য করে।

6. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে তরমুজ এর ভূমিকা -

তরমুজ ভিটামিন সী ভরপুর হওয়ার কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে পারে। এছাড়াও তরমুজে ফাইবার পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে, যেটা আমাদের অন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই ফলে উপস্থিত ভিটামিন b6 যেটা আমাদের প্রতিরক্ষা প্রণালী কে এন্টিবডি উৎপাদন করতে সাহায্য করে। তরমুজে উপস্থিত ভিটামিন এ প্রতিরক্ষা প্রণালী কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং সংক্রমণের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে। এক সুস্থ জীবনের জন্য ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হওয়া খুবই জরুরী, এজন্য আপনি আপনার দৈনিক খাদ্যতালিকায় তরমুজের স্থান নির্ধারণ করতে পারেন।
তরমুজের উপকারিতা / Benefits of watermelon in Bengali তরমুজের উপকারিতা / Benefits of watermelon in Bengali Reviewed by ভালোবাসি on December 06, 2019 Rating: 5

পেট পরিষ্কার করতে কমলালেবুর ভূমিকা / Home remedy for constipation in Bengali

December 06, 2019

পেট পরিষ্কার করতে কমলালেবুর ভূমিকা / Home remedy for constipation in Bengali -

remedy for constipation


ভারত তথা সারা বিশ্বের একটি জনপ্রিয় ফল হল কমলালেবু। কমলালেবুর তার স্বাদ এবং উপকারিতার জন্য প্রসিদ্ধ। কমলালেবু যেমন সহজপাচ্য তেমনি পুষ্টিকর। এই কারণের যেকোন মানুষের জন্য কমলালেবু খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়মিত কমলালেবু সেবন করার মাধ্যমে হরেক রকম অসুখ-বিসুখ এর হাত থেকে আমরা শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে পারি।

1. কমলালেবু কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে -


কমলা লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার পাওয়া যায়। এই ফাইবার আপনার কোলেস্টেরল কম করতে সাহায্য করে। এছাড়াও কমলালেবুতে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান ভিটামিন-সি পটাশিয়াম এবং ফ্লাভোনয়ডস পাওয়া যায়, যা কোলেস্টেরল কম করতে সাহায্য করে।

2. কোলন ক্যান্সার ঠিক করতে সাহায্য করে কমলালেবু -


কমলা লেবুতে ফাইবার প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানা গেছে যে খাইবার কোলন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে শরীরকে, কারণ ফাইবার কোলন সক্রিয় রাখতে যেমন সাহায্য করে তেমনি ধীরে ধীরে কোলনের শক্তি বৃদ্ধি করে।

3. বাতের বেদনা কম করতে সাহায্য করে কমলালেবু -


একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে যে কমলা লেবুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল,  অ্যান্টি ফাংগাল এবং এন্টি ইনফ্লামেটরি গুণ পাওয়া যায়, যেটা সন্ধিবাত এর সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। কমলালেবুর তেল ব্যবহার করে আক্রান্ত স্থানে মালিশ করলে বাত ব্যথার সমস্যা থেকে আরাম পাওয়া যায়।

4. ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য কমলালেবু উপকারী -


কমলালেবুতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার পাওয়া যায়। বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুসারে জানা গেছে যে ফাইবার শর্করার মাত্রা (blood sugar) এবং গ্লাইকোসিলেটেড হিমোগ্লোবিন (HbA1c) কম করতে সাহায্য করে, যা কিনা টাইপ টু ডায়াবেটিস সৃষ্টি করার মুখ্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফাইবারযুক্ত কমলালেবুর নিয়মিত সেবন করা খুবই জরুরী।

5. রক্তাল্পতা -


কমলা লেবুতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং ভিটামিন সি পাওয়া যায়। নিয়মিত কমলালেবু সেবন করলে রক্তে আয়রনের ঘাটতি পূরণ হয় যার ফলে এনিমিয়া জনিত সমস্যা দূর হয়।

6. ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য কমলালেবুর প্রয়োজনীয়তা -


কমলা লেবুতে ভিটামিন সি অধিক মাত্রায় পাওয়া যায়, যা কিনা অ্যান্টি-এজিং এবং ইউভি প্রটেকশন করার সাথে সাথে ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এর জন্য আপনি প্রতিদিন দু-একটা কমলালেবু সেবন করতে পারেন অথবা এক গ্লাস কমলালেবুর রস পান করতে পারেন।

7. সুস্থ চুলের জন্য উপকারী কমলালেবু -


কমলালেবুতে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই এবং আয়রন প্রচুর মাত্রায় পাওয়া যায। এইসব ভিটামিন্স এবং আয়রনে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি প্রদান করে। যেটা চুল ঝরে পড়ার সমস্যা আটকাতে পারে, সাথে সাথে চুল ঘন ও মজবুত হয়ে ওঠে।

8. কমলা লেবু ত্বকের কালো দাগ স্পট দূর করে -


কমলালেবু খাওয়ার পরই ভুল করেও কমলালেবুর খোসা বাইরে ফেলে দেবেন না যেন, কেননা কমলালেবুর খোসা আপনার ত্বক পরিষ্কার করতে খুবই সাহায্য করে। কমলালেবুর খোসায় ভিটামিন সি পাওয়া যায়। ভিটামিন সি ত্বকের কালো দাগ ছোপ দূর করে এবং স্কিন কোমল নরম বানাতে সাহায্য করে, এছাড়া ত্বকের নতুন কোষের বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে। এর জন্য আপনি কমলালেবুর খোসার পেস্ট বানিয়ে ত্বকের ওপর প্রলেপ লাগাতে পারেন এবং পনেরো কুড়ি মিনিট পরে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত করলে ত্বকের কালো দাগ ছোপ অল্প দিনের মধ্যেই সেরে যাবে।

9. পেট পরিষ্কার করতে কমলালেবুর সাহায্য করে -


কমলালেবু হলো ফাইবার এর একটি উৎকৃষ্ট স্রোত। আসলে যে কোন খাবারের মধ্যস্থ ফাইবার ডাইজেস্টিভ সিস্টেমকে উন্নত করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যা ঠিক করতে সাহায্য করে। ফাইবার আপনার মল নরম করে এবং মলত্যাগের প্রক্রিয়াকে সরল করে তোলে, এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য বা কোষ্ঠবদ্ধতার সমস্যা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যায়।
পেট পরিষ্কার করতে কমলালেবুর ভূমিকা / Home remedy for constipation in Bengali পেট পরিষ্কার করতে কমলালেবুর ভূমিকা / Home remedy for constipation in Bengali Reviewed by ভালোবাসি on December 06, 2019 Rating: 5

ডিহাইড্রেশনের কারণ লক্ষণ এবং ঘরোয়া প্রতিকার / Dehydration causes symptoms and home remedies in Bengali -

December 06, 2019

ডিহাইড্রেশনের কারণ লক্ষণ এবং ঘরোয়া প্রতিকার / Dehydration causes symptoms and home remedies in Bengali -

Dehydration causes


শরীরের জন্য জল খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পদার্থ। শুধু শরীরের জন্য নয় বরং বলা ভালো জীবনের জন্যই জল। মানুষ খাদ্য ছাড়াও কয়েকদিন জীবন ধারণ করতে পারে, কিন্তু জল ছাড়া মানুষের একদিনও বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে যায়। শরীরে জলের ঘাটতি হলে শরীরে নানা রকমের সমস্যা সৃষ্টি হয়, যার মধ্যে ডিহাইড্রেশন অর্থাৎ শরীরে জলের ঘাটতি একটি জটিল সমস্যা। গ্রীষ্মকালে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, এতে রক্তের তরল পদার্থের ঘাটতি হয়, এতে যেকোনো বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। যদি সঠিক সময়ে শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ না করা হয় অর্থাৎ শরীরকে হাইড্রেট না করা হয় তাহলে প্রাণহানি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আজকের এই লেখা থেকে আমরা জেনে নেব যে ডিহাইড্রেশনের কারণ লক্ষণ এবং এর প্রতিকারের উপায়।

ডিহাইড্রেশন আসলে কি / What is dehydration in Bengali -


ডিহাইড্রেশন তখনই সৃষ্টি হয় যখন শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল ও তরল পদার্থের অভাব হয়। ডিহাইড্রেশনের সমস্যা হালকা মধ্যম অথবা গম্ভীর আকারে দেখা দিতে পারে, যেটা এই পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে যে আপনার শরীর কতটা পরিমাণে জল বা তরল পদার্থ হারিয়ে ফেলেছে।
ডিহাইড্রেশনের পিছনে অনেক রকম কারণ থাকতে পারে তাহলে চলুন পরবর্তী পর্যায়ে আমরা জেনে নেই যে ডিহাইড্রেশন এর কারণ গুলো কি কি।

ডিহাইড্রেশনের কারণ / Causes of dehydration in Bengali -


শরীরের তরল পদার্থ কম হওয়ার জন্য নানারকম কারণ রয়েছে, তারমধ্যে এখানে কয়েকটি কথা উল্লেখ করা হল, যেমন

# রোদে অধিক্ষণ থাকলে
# অত্যাধিক ঘাম হওয়ার ফলে
# জ্বর
# বমি
# পাতলা পায়খানা
# অতিরিক্ত প্রস্রাব হওয়া
# শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া

শরীরে ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ / Symptoms of dehydration in Bengali -


শরীরে জলের ঘাটতি হলে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু সংকেত বা লক্ষণ দেখা যায়, যেমন

# তেষ্টা পাওয়া
# পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রস্রাব না হওয়া
# শুষ্ক মুখ অথবা লালাযুক্ত মুখগহ্বর
# হলুদ রঙের প্রস্রাব
# শুষ্ক ও শীতল ত্বক
# মাথাব্যথা
# মাংসপেশিতে ব্যথা বেদনা
# শুষ্ক অথবা সংকুচিত ত্বক
# মাথা ঘোরা
# অতিরিক্ত হার্টবিট
# দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া
# মানসিক অস্থিরতা
# অজ্ঞান বা মূর্ছা যাওয়া

ডিহাইড্রেশনের কারণ ও লক্ষণ জেনে নেওয়ার পরে আমাদের জানা উচিত যে ডিহাইড্রেশনের সমাধান করার ঘরোয়া উপায়।

ডিহাইড্রেশন ঠিক করার উপায় / Home remedies for dehydration in Bengali -


ডিহাইড্রেশন দূর করার কিছু ঘরোয়া ও প্রাথমিক উপায় রয়েছে, যা অবলম্বন করলে খুব দ্রুত শরীর হাইড্রেট হয়ে উঠবে এবং রোগী খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।

1. এসেন্সিয়াল অয়েল / লেবুর তেল


সামগ্রী

দু-এক ফোঁটা লেবুর তেল
এক গ্লাস জল

এক গ্লাস জলে দু-এক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন।
প্রতিদিন একবার লেবুর তেলযুক্ত এই পানীয় সেবন করা উচিত।

ডিহাইড্রেশন দূর করার জন্য আপনি লেবু ব্যবহার করতে পারেন। লেবুর তেল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যেটা আপনার শরীরকে হাইড্রেট করতে এবং সুস্থ রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

2. পুদিনা তেল / peppermint oil -

সামগ্রী

পুদিনা তেল দুই ফোঁটা
এক গ্লাস জল

এক গ্লাস জলে দু ফোঁটা পুদিনা তেল মিশিয়ে পান করুন।
প্রতিদিন একবার থেকে দুইবার পুদিনা তেল যুক্ত পানীয় পান করুন।

পুদিনা তেল অর্থাৎ পিপারমেন্ট অয়েলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়, যেটা ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দূর করতে আপনাকে সাহায্য করবে।

3. ডাবের জল / Coconut water -

ডিহাইড্রেশনের সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার জন্য আপনি প্রতিদিন 3-4 গ্লাস ডাবের জল পান করতে পারেন।

শরীরকে হাইড্রেট রাখতে ডাবের জল কিভাবে সাহায্য করে ?

ডাবের জলে সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম এর মত দুটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রচুর মাত্রায় পাওয়া যায়। ডিহাইড্রেশনের সময় শরীরে এই দুটি পদার্থের ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। ডাবের জল সেবন করলে শরীরে পটাশিয়াম এবং সোডিয়াম এর ঘাটতি খুব দ্রুত পূরণ হওয়া সম্ভব। এর ফলে শরীরে তরল পদার্থের ঘাটতি জনিত সমস্যা থেকে আক্রান্ত ব্যক্তি মুক্তি পাবেন।

4. ঘরোয়া ওআরএস / Home made ORS -

শরীরে তরল পদার্থের ঘাটতি ও জলের ঘাটতি পূরণ করার জন্য ওআরএস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই ওআরএস ওরাল স্যালাইন আপনি বাড়িতে তৈরি করে নিতে পারেন।
আপনি ঘরে বসেই কিভাবে ওআরএস তৈরি করবেন, এর জন্য আপনার লাগবে,

দু'এক চিমটি লবণ
দু এক চামচ চিনি
এক গ্লাস জল

প্রথমে একগ্লাস জলে দু এক চামচ চিনি এবং দু এক চিমটি লবণ ভাল করে মিশিয়ে নিন, এবার এই মিশ্রণটি ডিহাইড্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তি পান করতে পারেন।
প্রতিদিন 4-5 বার এই ঘরোয়া ওআরএস বানিয়ে সেবন করতে পারেন, এতে খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।

5. ডিহাইড্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রচুর পরিমাণে জল পান করতে হবে এবং বারবার জল পান করতে হবে। কারণ শরীর হাইড্রেট করার জন্য জল সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং রোগীর উচিত যত বেশি সম্ভব জল পান করা, এতে রক্তে তরল পদার্থের ঘাটতি পূরণ হবে।

ডিহাইড্রেশনের সমস্যা জটিল আকার ধারণ করলে এবং যদি আক্রান্ত ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যান তাহলে অবশ্যই রোগীকে হসপিটালাইজ্ড করা জরুরী।
ডিহাইড্রেশনের কারণ লক্ষণ এবং ঘরোয়া প্রতিকার / Dehydration causes symptoms and home remedies in Bengali - ডিহাইড্রেশনের কারণ লক্ষণ এবং ঘরোয়া প্রতিকার / Dehydration causes symptoms and home remedies in Bengali - Reviewed by ভালোবাসি on December 06, 2019 Rating: 5

ডায়রিয়ার ঘরোয়া চিকিৎসা / Home remedies for diarrhoea in Bengali

December 05, 2019

ডায়রিয়ার ঘরোয়া চিকিৎসা / Home remedies for diarrhoea in Bengali 

diarrhoea


ডায়রিয়াতে যেমন শিশুরা আক্রান্ত হয় তেমনি মাঝবয়সি এবং বয়স্ক মানুষজন এই রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। ডায়রিয়াতে যখন বারবার পাতলা পায়খানা হতে থাকে এতে শরীরে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা তৈরি হয়, শরীরের রক্তে যথেষ্ট পরিমাণে জলের ঘাটতি হয় এই পরিস্থিতিতে রক্তে জলের ঘাটতি মেটানোর জন্য রোগীকে বারবার ওরাল স্যালাইন খাওয়ানো হয়। রক্তে জলের ঘাটতি হলে শরীরে খুবই দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া লাগাতার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে সমস্যা জটিল আকার ধারণ করে, এর ফলে রোগীর প্রাণহানি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। সুতরাং ডায়রিয়ার সমস্যা সৃষ্টি হলে অবশ্যই সচেতন হওয়া দরকার, সঠিক সময়ে চিকিৎসা করা দরকার। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডায়রিয়া প্রাথমিক চিকিৎসায় সেরে যায়। তবে এসব ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই কারণে যেমন জল ফুটিয়ে পান করা উচিত অর্থাৎ বিশুদ্ধ জল পান করা উচিত, এবং বিশুদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। বাসি খাবার, পচা খাবার বা যেসব খাবারে মাছি মশা বসে সংক্রমিত করেছে সেই ধরনের খাবার থেকে বিরত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। ডায়রিয়ার নানারকম কারণের মধ্যে অন্যতম মুখ্য কারণ হলো দূষিত জল এবং দূষিত খাবার। সুতরাং পানীয় জল এবং খাবারের ব্যাপারে সচেতন থাকা খুব জরুরী, বিশেষ করে যখন গ্রীষ্মকালে এবং বর্ষাকালে জলে ও খাবার-দাবারে সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। যেমন বিশুদ্ধ পাত্রে জল এবং খাবার সংরক্ষণ করা উচিত, তেমনি সর্বদা ঢাকা দিয়ে রাখাও জরুরী। খাবার আগে ভালো করে হাত ধোয়া যেমন জরুরি তেমনি খাবার পরিবেশন করার আগে বাসন বিশুদ্ধ জলে ধুয়ে নেওয়া দরকার এবং খাবার পরিবেশন কারীকে যথেষ্ট স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। কারণ স্বচ্ছতা অবলম্বন করার মাধ্যমে ডায়রিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অনেক ক্ষেত্রে ডায়রিয়া সেরে যায় কোন রকম চিকিৎসা না করেই, আবার বহু ক্ষেত্রে ডায়রিয়ার চিকিৎসীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে ডায়রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা বিশেষ করে প্রাকৃতিক ঘরোয়া চিকিৎসা করা সবচেয়ে ভালো, কেননা প্রাকৃতিক ঘরোয়া চিকিৎসা যেমন কার্যকরী, তেমনি এতে শরীরের উপর কোন হানিকারক প্রভাব পড়ে না।

সুতরাং আজকের এই লেখাতে আমরা আলোচনা করেছি যে ডায়রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে কি কি প্রাথমিক ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা অবলম্বন করা যায়, যাতে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।

ডায়রিয়ার ঘরোয়া চিকিৎসা / Diarrhoea home remedies in Bengali -


1. ও আর এস / ORS -

সামগ্রী

6 চামচ চিনি
1 চামচ লবণ
1 লিটার ফোটানো জল

ORS বানানোর বিধি -

জলে চিনি ও লবণ খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন, এই মিশ্রণটি হলো ওরাল স্যালাইন, এখন এই মিশ্রণটি পান করুন।
যতবার আপনার পাতলা পায়খানা হবে ততবার অর্ধ গ্লাস বা এক গ্লাস করে এই ওরাই স্যালাইন পান করবেন।

এই ওরাল স্যালাইন কিভাবে উপকার করে ?

বাজারে প্যাকেট বন্দি ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস পাওয়া যায়। কিন্তু পরিবারের মধ্যে যদি কেউ হঠাৎ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে সে ক্ষেত্রে খুব দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে ইলেক্ট্রোলাইট স্ট্রিংস অথবা ওআরএস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এক্ষেত্রে বাড়ীতে তৈরি ওআরএস খুবই উপকারী। ডায়রিয়ার ফলে শরীরে জলের ঘাটতি হলে সেই ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে ওরাল স্যালাইন। এর ফলে শরীরের ডিহাইড্রেশন দূর হয় এবং শরীর হাইড্রেট হয়ে ওঠে। এর ফলে যেমন শারীরিক দুর্বলতা দূর হয়, তেমনি ডায়রিয়া থেকে দ্রুত সেরে ওঠার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

2. ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য ডাবের জল খুবই গুরুত্বপূর্ণ -

ডায়রিয়া চলাকালীন প্রতিদিন এক গ্লাস ডাবের জল পান করা খুবই উপকারী।

যিনি প্রাথমিক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তার জন্য ডাবের জল খুবই উপযোগী, কেননা ডাবের জল সেবন করলে রিহাইড্রেশন অর্থাৎ শরীরে জলের স্তর এর ভারসাম্য বজায় থাকে। এছাড়া ডায়রিয়ার পরবর্তী পর্যায়ে বা রিকভারি সময়ে রোগীকে যেসব পথ্য দেওয়া হয় অর্থাৎ রিফিডিংগ এর সময় অবশ্যই ডাবের জল যুক্ত করা দরকার।

সাবধানতা - গম্ভীর ডিহাইড্রেশন অর্থাৎ ডায়রিয়ার জটিল অবস্থায় ডাবের জল ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা নেই, এছাড়া কলেরা এবং কিডনির সমস্যা হলে ডাবের জল ব্যবহার করা উচিত নয়।

3. ডায়রিয়ায় উপকারী মধু -

এক গ্লাস খুব হালকা গরম জলে দু এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। আপনি সারা দিনে দুবার এটি করতে পারেন।

ডায়রিয়াতে মধু কিভাবে উপকার করে ?

মধু অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণে ভরপুর, যেটা গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটাইস এর কারণে সৃষ্টি হওয়া ডায়রিয়া সারাতে সাহায্য করে। যদি আপনার ওআরএস পানীয়তে মধু যুক্ত করতে পারেন তাহলেও উপকার পাওয়া যাবে।

ডায়রিয়ার প্রাথমিক ঘরোয়া চিকিৎসা চলাকালীন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।
ডায়রিয়ার ঘরোয়া চিকিৎসা / Home remedies for diarrhoea in Bengali ডায়রিয়ার ঘরোয়া চিকিৎসা / Home remedies for diarrhoea in Bengali Reviewed by ভালোবাসি on December 05, 2019 Rating: 5

বদ হজমের সমস্যা দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায় / How to improve digestive system

December 04, 2019

বদ হজমের সমস্যা দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায় / How to improve digestive system ?


improve digestive


বদহজম জনিত সমস্যাকে আমরা সাধারণভাবে এড়িয়ে চলি, এটা যে শরীরের ওপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে সেটা আমরা সবসময় ভাবতে পারিনা। বরং অস্থায়ীভাবে অ্যান্টাসিড-জাতীয় ওষুধ সেবন করে উপকার লাভ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এন্টাসিড জাতীয় ঔষধ বা অন্যান্য রাসায়নিক যুক্ত ঔষধ শরীরের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক, কেননা এই ধরনের ওষুধ আপনার শরীরের মধ্যে ভয়ঙ্কর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
সুতরাং বদহজম জনিত সমস্যা দেখা দিলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি। তবে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে নানা রকম ঘরোয়া চিকিৎসার কথা ভাবেন, এবং এই ধরনের ঘরোয়া চিকিৎসা খুবই উপকারী, এছাড়া এই রকমের প্রাকৃতিক চিকিৎসা ফলে শরীরে কোন ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে না।

ঠিক এই কারনে আজকের এই লেখাতে আমরা প্রাকৃতিক চিকিৎসা বা ঘরোয়া চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করব এই ধরনের ঘরোয়া চিকিৎসা করে বদহজমের সমস্যা যেমন ঠিক করা সম্ভব তেমনি ধীরে ধীরে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে।

হজম শক্তি বৃদ্ধি করার উপায় / Home remedies for indigestion in Bengali -


1. হজম শক্তি বৃদ্ধি করার উপায় হলো লেবু এবং আদা -

সামগ্রী

এক ইঞ্চি সাইজের একটি আদার টুকরো
এক-চামচ লেবুর রস
এক কাপ গরম জল
এক চামচ মধু

ব্যবহার করার বিধি -

এক কাপ গরম জলে এক টুকরো আদা ফেলে দিন এবং তাতে এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে দিন। এইভাবে প্রায় 10 মিনিট পর্যন্ত রেখে দিন। তারপর ওই হালকা গরম জল ছেঁকে নিয়ে তাতে এক চামচ মধু মিশিয়ে দিন, তারপর পান করুন।

এভাবে আপনি প্রতিদিন দুবার করে 3-4 সপ্তাহ পর্যন্ত পালন করুন, ধীরে ধীরে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং বদহজম জনিত লক্ষণ দূর হয়ে যাবে।

এটি কিভাবে উপকার করে ?
লেবু এবং আদার যে শুধুমাত্র আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করে তা নয়, বরং ব্লটিং এর সমস্যা থেকে আপনাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। এতে উপস্থিত অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি গুণ অতিরিক্ত অ্যাসিডের কুপ্রভাব থেকে পেটকে সুরক্ষিত রাখে।

2. হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে একটি অনবদ্য ভেষজ উপাদান হলো জিরা -

সামগ্রী

এক চামচ জিরা
এক কাপ গরম জল

এটি বানানোর বিধি

এক কাপ গরম জলে এক চামচ জিরা ফেলে দিন। এভাবে 5 থেকে 10 মিনিট রেখে দিন। তারপর ছেঁকে নিয়ে এই জল হালকা গরম গরম অবস্থায় চায়ের মত করে পান করুন।
এছাড়া আপনি ইচ্ছে করলে ভোজন খাওয়ার পরে অর্ধ চামচ জিরা চিবিয়ে চিবিয়ে খেতে পারেন, এতে ভালো ফল পাওয়া যায়।
প্রতিদিন দু'বেলা মুখ্য আহারের পরে এই আয়ুর্বেদিক চা পান করুন লাগাতার 3-4 সপ্তাহ। ধীরে ধীরে ডাইজেস্টিভ সিস্টেম এর উন্নতি লক্ষ করা যাবে।

জিরা কিভাবে বদহজম সারাতে সাহায্য করে ?

জিরাতে উপস্থিত অ্যান্টি ফ্লৈট্যুলেন্ট গুন পাওয়া যায়, যেটা আপনার ব্লোটিং এর মত সমস্যা ঠিক করতে সাহায্য করে, এর সাথে সাথে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।

3. অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার -

সামগ্রী

এক চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এক গ্লাস জল

প্রয়োগ করার বিধি -

গরম জলে এক চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে দিন, এছাড়া আপনার ইচ্ছেমতো এক চামচ মধু মেশাতে পারেন। তারপর এই মিশ্রণটি পান করুন।
প্রতিদিন দুবার করে এই প্রক্রিয়াটি আপনি একমাস পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারেন, এতে অবশ্যই সুফল পাওয়া যায়।

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার কিভাবে উপকার করে ?

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারে অ্যাসিটিক অ্যাসিড পাওয়া যায়, যেটা অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এর ফলে অতিরিক্ত এসিড জনিত সমস্যা থেকে আপনি সুরক্ষিত থাকতে পারেন।

তো এই ধরনের ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু একটা কথা অবশ্যই মনে রাখবেন যে ডায়রিয়ার সময় সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কেননা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন রোগের সঠিক চিকিৎসা সঠিকভাবে সম্ভব নয়।
বদ হজমের সমস্যা দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায় / How to improve digestive system বদ হজমের সমস্যা দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায় / How to improve digestive system Reviewed by ভালোবাসি on December 04, 2019 Rating: 5
Powered by Blogger.